ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে? ই পাসপোর্ট ফি

ই পাসপোর্ট ফি কত কিংবা ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে সেই সম্পর্কিত তথ্য জেনে নিতে চান? বিভিন্ন রকমের পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে কি রকমের পাসপোর্ট চার্জ প্রয়োজন হবে, সে সম্পর্কিত তথ্য এই আর্টিকেলটিতে জেনে নিতে পারবেন।

আপনি হয়তো এই সম্পর্কে অবগত আছেন যে আপনি চাইলে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য বিভিন্ন রকমের ফি প্রয়োজন হয়।

ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধার জন্য সমস্ত দিক বিবেচনা করে পাসপোর্ট তৈরি করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগবে?

আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পারবেন আপনি চাইলে বিভিন্ন রকমের ক্যাটাগরির মধ্যে পাসপোর্ট তৈরি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে একেক রকমের পাসপোর্টে এক এক রকমের ফিচারস রয়েছে।

সেক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেক ধরনের ই পাসপোর্ট তৈরি করতে কত টাকা লাগবে কিংবা ই পাসপোর্ট ফি কত টাকা? সেই সম্পর্কে নিচে থেকে জেনে নিন।

৫ বছরের মেয়াদ সম্বলিত ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ফি

পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনি যদি ৫ বছরের মেয়াদ সম্বলিত ৪৮ পাতার পাসপোর্ট করে নেয়ার চিন্তাভাবনা করে থাকেন, তাহলে এই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে ফিস কত টাকা হবে?

৫ বছর মেয়াদের ৪৮ পাতার সম্বলিত পাসপোর্ট আপনি চাইলে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে তৈরি করতে পারবেন।

  • নিয়মিত পাসপোর্ট: ১৫ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হবে। পাসপোর্ট ফি হলো: ৪,০২৫ টাকা।
  • জরুরী পাসপোর্ট: ৭ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হবে। ফি পরিমান: ৬,৩২৫ টাকা।
  • অতি জরুরী পাসপোর্ট: ২ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হবে। মোট ফি পরিমান: ৮,৬২৫ টাকা।

১০ বছরের মেয়াদ সম্বলিত ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ফি

এবার আপনি যদি পাসপোর্ট এর মেয়াদ ৫ বছর থেকে ১০ বছর রূপান্তরিত করতে চান, তাহলে ১০ বছর মেয়াদ সম্বলিত ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ফি কত টাকা কাটবে? সে সম্পর্কিত তথ্য নিচে থেকে জেনে নিন।

৫ বছর মেয়াদের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে যে ফি রয়েছে, সে ফি এর চেয়ে ১০ বছর মেয়াদের পাসপোর্ট আবেদন করার ফি তুলনামূলক বেশি।

  • নিয়মিত পাসপোর্ট– ১৫ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হয়ে থাকে। মোট ফি’র পরিমাণ: ৫,৭৫০ টাকা
  • জরুরী পাসপোর্ট– ৭ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি পরিমান: ৮,০৫০ টাকা
  • অতি জরুরী পাসপোর্ট– ২ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি পরিমান: ১০,৩৫০ টাকা

১০ বছর মেয়াদের জন্য, আপনি যদি ৪৮ পাতার পাসপোর্ট আবেদন করেন তাহলে উপরে উল্লেখিত ফিস দেয়ার মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।

৫ বছরের মেয়াদ সম্বলিত ৬৪ পাতার পাসপোর্ট ফি

৫ বছর মেয়াদ সম্বলিত ৬৮ পাতার পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে যে সমস্ত ফি দিতে হবে, সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে নিচে তুলে ধরা হলো।

যেহেতুআপনি পাসপোর্ট পাতার সংখ্যা আপনি বৃদ্ধি করেছেন, সেজন্য পূর্বের যে ৫ বছর মেয়াদের ৪৮ পাতার পাসপোর্টের ফি রয়েছে, তার চেয়ে এখানে থাকা ফি বেশি হওয়াটা খুব স্বাভাবিক।

  • নিয়মিত পাসপোর্ট- ১৫ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হবে। ফি পরিমান: ৬,৩২৫ টাকা
  • জরুরী পাসপোর্ট– ৭ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান করা হবে। মোট ফি পরিমান: ৮,৩২৫ টাকা
  • অতি জরুরী পাসপোর্ট– ২ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি: ১২,০৭৫ টাকা

১০ বছরের মেয়াদ সম্বলিত ৬৪ পাতার পাসপোর্ট ফি

এছাড়াও ১০ বছর মেয়াদের জন্য ৬৪ পাতার পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত ফি বরাদ্দ হবে, সে সম্পর্কিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।

  • নিয়মিত পাসপোর্ট– ১৫ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি: ৮,০৫০ টাকা
  • জরুরী পাসপোর্ট– ৭ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি: ১০,৩৫০ টাকা
  • অতি জরুরী পাসপোর্ট– ২ কর্মদিবসের মাঝে প্রদান। ফি: ১৩,৮০০ টাকা

ই পাসপোর্ট আবেদন করতে কত টাকা লাগে কিংবা ই পাসপোর্ট ফি কত টাকা সেটি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে নির্ভর করে যত টাকা ফি হয় সেই সম্পর্কিত তথ্য উপরে আলোচনা করা হলো।

আমেরিকা থেকে ই পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

এছাড়াও আপনি যদি আমেরিকা থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করতে চান, তাহলে আমেরিকান প্রবাসী হিসেবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট করার জন্য ফি কত টাকা হবে?

আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার খরচ সম্পর্কে তথ্য নিচে থেকে জেনে নিন।

আবেদনের ধরনমোট ফি
৪৮ পাতা ৫ বছর মেয়াদীRegular- ১১০.০০ ডলার।
Express- ১৬৫.০০ ডলার।
৪৮ পাতা ১০ বছর মেয়াদীRegular- ১৩৭.৫০ ডলার।
Express- ১৯২.৫০ ডলার।
৬৪ পাতা ৫ বছর মেয়াদীRegular- ১৬৫.০০ ডলার।
Express- ২২০.০০ ডলার
৬৪ পাতা ১০ বছর মেয়াদীRegular- ১৯২.৫০ ডলার।
Express- ২৪৭.৫০ ডলার।
দেখে নিন: আজকের ডলার রেট

পাসপোর্ট ফি কম বেশি হওয়ার কারণ কি?

আপনি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পারবেন আপনি চাইলে বিভিন্ন রকমের ক্যাটাগরির মধ্যে বিভিন্ন রকমের পছন্দের পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনি যদি অতি জরুরী পাসপোর্ট তৈরি করেন তাহলে প্রায় প্রতিক্ষেত্রে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি আপনি পাসপোর্ট ডেলিভারি পেয়ে যাবে। । অর্থাৎ সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ডেলিভারি করার জন্য আপনি অতি জরুরী পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন।

এবং আপনার যদি অর্থের সমস্যা থেকে থাকে, আপনার হাতে যদি নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় থেকে থাকে বা আপনি যদি তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট করতে না চান, তাহলে আপনি চাইলে সাধারণ পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন।

সাধারণ পাসপোর্ট আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনাকে ফি কম দিতে হয় এবং বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় পাসপোর্ট ডেলিভারি পাওয়ার জন্য।

মোট কথা হল, যে কারো অবস্থা বিবেচনা করে যাতে যেকেউ চাইলে পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন। সেজন্য ভিন্ন রকমের ক্যাটাগরি ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যাতে করে আপনি আপনার অবস্থা বিবেচনা করে পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন এবং এই সমস্যা থেকে উত্তীর্ণ হতে পারেন।

ই পাসপোর্ট ফি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্তর (FAQ)

এছাড়াও ই-পাসপোর্ট ফি নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনি যদি জেনে নিতে চান, তাহলে সেটি তা নিচে থেকে জেনে নিতে পারেন।

ই পাসপোর্ট ফি কিভাবে দেব?

ই পাসপোর্ট আবেদন করার পরবর্তী সময় আপনাকে ই পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। আপনি চাইলে এই পাসপোর্টে যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বিশেষ কোন সুবিধা কি পাওয়া যাবে?

আপনি যদি একজন সরকারি চাকরিজীবী হন এবং সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আপনি যদি পাসপোর্ট করতে চান, তাহলে আপনি অবশ্যই বিশেষ সুবিধা পাবেন।

সরকারি চাকরিজীবিদের যাদের NOC আছে বা অবসর সনদ আছে, তারা রেগুলার ফি দিয়ে জরুরী সুবিধা পাবেন।

অর্থাৎ; একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আপনি জরুরি আবেদন করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে রেগুলার ফি দেয়ার মাধ্যমে জরুরী আবেদনের যে সুবিধা রয়েছে, সেই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

ই-পাসপোর্ট টাকা জমা কত দিনের ভিতরে দিতে হয়?

যখনই আপনি পাসপোর্ট আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করে ফেলবেন তারপরে আপনাকে এই সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে যে আপনাকে মোট কত দিনের ভিতর পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হবে?

মোট কথা হল; পাসপোর্ট আবেদন এর টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য তারিখ আপনাকে এসএমএস করার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে অথবা আবেদন করার সময় সে সম্পর্কিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

thirteen − seven =

Scroll to Top